গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাংগালিয়া ইউনিয়নের নরুন (সাতনপাড়া) গ্রামে এক হৃদয়বিদারক অগ্নিকাণ্ডে স্থানীয় মসজিদের ইমাম অহিদুল আলমের গড়ে তোলা গরুর খামার পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় পাঁচটি গরু পুড়ে মারা গেছে এবং বাকি গরুগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইমামতির পাশাপাশি গরু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন অহিদুল আলম। সীমিত সামর্থ্য নিয়েও প্রশিক্ষণ নিয়ে ছোট পরিসরে খামার শুরু করে ধীরে ধীরে গরুর সংখ্যা সাতটিতে উন্নীত করেন তিনি। তবে সোমবার দিবাগত রাতেই আগুনে মুহূর্তে শেষ হয়ে যায় তার বহু বছরের পরিশ্রম।
খামার মালিক অহিদুল আলম জানান, প্রতিদিনের মতো সোমবার রাত ১১টার দিকে গরুগুলোকে খাবার দিয়ে বাড়িতে ঘুমাতে যান তিনি। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে পাশের বাড়ির শহিদুল্লাহ গরুর অস্বাভাবিক ডাক শুনে বাইরে বের হয়ে দেখেন গোয়ালঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। পরে তিনি আশপাশের মানুষজনকে ডাক দেন এবং দ্রুত বিষয়টি খামারের মালিককে জানান।
স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে গোয়ালে থাকা পাঁচটি গরু পুড়ে মারা যায়। গরুগুলো রশি দিয়ে বাঁধা থাকায় আগুন থেকে বের হতে পারেনি বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল জানান, খামারটিতে কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। ফলে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা নেই। গোয়ালের মাচায় রাখা শুকনো লাকড়ি থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেশীরা জানান, গোয়ালে রাখা মশার কয়েলটি অক্ষত ছিল। তাদের ধারণা, মাচায় থাকা শুকনো কাঠ থেকেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঘর গ্রাস করে।
ভুক্তভোগী অহিদুল আলম বলেন, ‘ধার-দেনা করে এই খামার গড়ে তুলেছিলাম। এই খামারের আয়েই আমার সংসার চলত। আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে। প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।