ফেনীর পরশুরামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগে জেল খাটা মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদ অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। দীর্ঘ তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার পর পুলিশ নিশ্চিত করেছে, ওই কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের জৈবিকপিতা তার আপন বড় ভাই। পরিবার বড় ভাইকে বাঁচাতে পরিকল্পিতভাবে ওই ইমামকে এই মামলায় ফাঁসিয়েছিল।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের নভেম্বরে পরশুরামের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের এক কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তার পরিবার স্থানীয় মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলে। কিশোরীর মায়ের করা মামলায় মোজাফফর আহমদ এক মাস দুই দিন কারাভোগ করেন। পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পেলেও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হন।
মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ ওই কিশোরী ও নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়। জেরার মুখে কিশোরী একপর্যায়ে স্বীকার করে, তার আপন বড় ভাই দীর্ঘদিন ধরে তাকে ধর্ষণ করে আসছিল। বিষয়টি আড়াল করতে পরিবারের সদস্যরা মিলে ইমাম মোজাফফরকে আসামি করেন। এরপর ২০২৫ সালের মে মাসে অভিযুক্ত ভাইকে গ্রেপ্তার করলে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন।
গত ৪ আগস্ট সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার ফরেনসিক প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, অভিযুক্ত ভাইয়ের সঙ্গেই নবজাতকের ডিএনএ ৯৯.৯৯ শতাংশ মিলেছে। প্রতিবেদনে স্পষ্ট জানানো হয়, মোজাফফর আহমদ ওই শিশুর পিতা নন। পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক শরীফ হোসেন মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ইমাম মোজাফফর আহমদকে অব্যাহতি দিয়ে ওই কিশোরীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন।