সাতক্ষীরা,প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরায় শুরু হয়েছে চলতি মৌসুমের আনুষ্ঠানিক আম সংগ্রহ। নির্ধারিত সময় মেনে গাছ থেকে আম পাড়া এবং গুণগত মান বজায় রেখে বাজারজাত নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার, ৫ মে থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নে আমচাষি আবু সাইদের বাগানে আনুষ্ঠানিকভাবে আম সংগ্রহের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) বিষ্ণুপদ পাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
উদ্বোধনের পরপরই বাগানজুড়ে শুরু হয় আম পাড়ার ব্যস্ততা। গাছে গাছে পাকা আম আর চাষিদের কর্মচাঞ্চল্যে পুরো এলাকা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মৌসুম শুরু হওয়ায় চাষিদের মুখে দেখা যায় স্বস্তি ও আশার হাসি।
আমচাষিরা জানান, সারা বছর ধরে এই সময়টির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এবছর গাছে ফলন ভালো হওয়ায় তারা আশাবাদী—নির্ধারিত সময়ে আম সংগ্রহ শুরু হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাবে। তবে বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছুটা হতাশাও রয়েছে তাদের মধ্যে। জেলায় একাধিক বিকল্প বাজার না থাকায় একটি নির্দিষ্ট বাজারের ওপর নির্ভর করতে হয়, ফলে অনেক সময় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন চাষিরা।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪ হাজারের বেশি হেক্টর জমিতে প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি বাগানে ১২ হাজার আমচাষি আম উৎপাদন করছেন। এ বছর মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময় মেনে আম সংগ্রহ করলে ফলের স্বাভাবিক পরিপক্বতা বজায় থাকে এবং বাজারে মানসম্মত আম সরবরাহ নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে অপরিপক্ব বা রাসায়নিকযুক্ত আম বাজারজাত রোধে প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের ঘোষিত ‘আম ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী ৫ মে থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই ও গোলাপখাস জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ১৫ মে থেকে হিমসাগর, ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি আম বাজারে আসবে।
নির্ধারিত সময়ের আগে আম পাড়া বা বিক্রি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
শুধু দেশীয় বাজারেই নয়, সাতক্ষীরার আম এখন আন্তর্জাতিক বাজারেও পৌঁছাচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ১০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মৌসুমের শুরুতেই বাজারে সাতক্ষীরার আম আসায় ক্রেতাদের মধ্যেও দেখা গেছে বাড়তি আগ্রহ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্ধারিত নিয়ম মেনে আম সংগ্রহ ও বাজারজাত নিশ্চিত করা গেলে কৃষক, ব্যবসায়ী এবং রপ্তানিকারক,সবার জন্যই এ মৌসুম হবে লাভজনক।
দেশের আম মৌসুমের সূচনাতেই সাতক্ষীরার আম নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।